
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের আয়োজনে আস্ত খাসি না রাখাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জেরে বিয়ে ভেঙে যাওয়া বর জুনায়েদ মিয়া শেষ পর্যন্ত আবার বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার রাতে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর নববধূর সঙ্গে ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে বিষয়টি জানিয়েছেন জুনায়েদ। সেখানে তিনি সবার কাছে নবদম্পতির জন্য দোয়া ও সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করেছেন।
এর আগে সোমবার আখাউড়ার তোলাতলা গ্রামের রাশেদা আক্তারের সঙ্গে জুনায়েদ মিয়ার বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষ কনের বাড়িতে যাওয়ার পর খাবারের আয়োজনে আস্ত খাসি না রাখাকে কেন্দ্র করে জুনায়েদের সঙ্গে কনেপক্ষের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে কনের পরিবার বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং উপহারসামগ্রীসহ বরপক্ষকে বিদায় করে দেয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা ও যোগাযোগের পর নতুন করে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। মঙ্গলবার রাতে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।
জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ রানা জানান, নতুন কনেপক্ষই তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিয়ের আয়োজন করা হয়। জুনায়েদের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি রয়েছে, প্রয়োজনে তিনি ছুটি বাড়াবেন।
নতুন কনে জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তার আখাউড়া উপজেলার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। তিনি কসবার সায়েদাবাদ সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তাঁর মামার বাড়ি কসবার নেয়ামতপুর গ্রামে।
এদিকে বিয়ের পর নতুন কনেপক্ষের দেওয়া খাবারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বরের জন্য আস্ত খাসি রান্না করে পরিবেশন করতে দেখা যায়। বরসহ অন্যরাও সেই খাবার আনন্দের সঙ্গে খাচ্ছেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নববধূর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে জুনায়েদ লেখেন, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে সবার কাছে নবদম্পতির জন্য দোয়া চেয়েছেন।